রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

কুমারখালীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন
Reporter Name
Update : রবিবার, ১৩ জুন ২০২১

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, নিয়মানুযায়ী যুদ্ধকালীন কমান্ডারদের নিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে, কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। বরং যারা যুদ্ধকালীন কমান্ডার ছিলেন না, তাদেরকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিধায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই কার্যক্রম ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মুক্তিযোদ্ধা মো. রুহুল আজম। বীর মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে ৫জন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন- মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি সাক্ষীদের স্বাক্ষর মুল্যায়ন না করে বাতিল করেছেন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার সাক্ষী হিসেবে যে সাক্ষ্য ও কাগজপত্র দিয়েছেন তা মুল্যায়ন করা হয়নি। যাচাই-বাছাই কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন তথ্য-উপাথ্য গ্রহণ না করে তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। যুদ্ধকালীন ডকুমেন্টস মূল্যায়ন না করে অসম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটিতে যুদ্ধকালীন কমান্ডার না থাকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই পক্ষপাতমুলক হয়েছে। এই যাচাই-বাছাই কমিটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বিধায় উক্ত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির ফলাফল বাতিল করে যুদ্ধকালীন কমান্ডারদের নিয়ে নতুন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার জানান মুক্তিযোদ্ধারা। অন্যথায় মুক্তিযোদ্ধারা আইনগত ব্যবস্থাসহ অনসন কর্মসূচী পালনের ঘোষনা দেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রহুল আজম বলেন, যুদ্ধকালিন কমান্ডারদের নিয়ে যাচাই বাছাই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। যুদ্ধকালিন কমান্ডার কমিটিতে না থাকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই পক্ষপাতমূলক হচ্ছে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করে বলেন, কমিটি সাক্ষীদের সাক্ষর মূল্যায়ন করছে না। আবার যুদ্বকালিন কমান্ডার যে সাক্ষ্য ও যে কাগজপত্র দিয়েছেন তাও মূল্যায়ন করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা অবিলম্বে এ কমিটি বাতিল করে যুদ্ধকালিন কমান্ডারদের নিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের দাবি জানান। দাবি না মানা হলে তারা আমরণ অনশনে বসবেন বলে হুশিয়ারী দেন। তারা বলেছেন, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে উদ্দেশ্যমুলকভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা আ: রউফ, মো. মহিউল আলম, মনছুর আলী, মো. আব্দুল মান্নান সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুযারী থেকে ২রা ফেব্র“য়ারী পর্যন্ত কুমারখালী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন, সদস্য সচিব ছিলেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, সদস্য হিসাবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. চাঁদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আবু আহসান বরুন। ক, খ ও গ তালিকাভুক্ত ২১০ জনের মধ্যে এবারের যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ৬০ জন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: