শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন

জোড়া খুনের ঘটনায়  মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ভয়ে গ্রাম শূন্য পুরুষ
Reporter Name
Update : শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

সত্যখবর ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০২১ ।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ভয়ে দুই গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। আর এলাকার কৃষকদের মাঠের বোরো জমিনে ধান পাকলেও পাকা ধান পুলিশের ভয়ে কাটতে পারছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। গ্রামে শুধু হাহাকার আর কান্না চলছে।ওই দুই হত্যা মামলায় আসামীর সংখ্যা ২০০।

 

গত ১৭ এপ্রিল খুনের ঘটনার পর থেকে দুটি গ্রামে নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন পুলিশ প্রহরা দিচ্ছে। গ্রামগুলিতে বৃদ্ধ – বৃদ্ধা, নারী – শিশু ছাড়া পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। সরজমিনে দেখা যায় গ্রামে বৃদ্ধ নারী শিশু ছাড়া কোন পুরুষ চোখে পড়েনি। মাঠে পাকা ধান ঝুলছে। ধান কাটার কোন লোক নেই। পাকা ধান কাটার এখনই সময়। কিন্তু মাঠ থেকে ধান কেটে কৃষকের গোলায় তুলতে পারবে কি না তা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।এদিকে পুলিশ জানায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়া অন্য কোন নিরীহ মানুষকে পুলিশ গ্রেপ্তার বা হয়রানী করবে না।

 

এলাকার কৃষকরা ধান কাটতে কোন বাধা দিবে না পুলিশ। তারপরও পুলিশের ভয়ে দুই গ্রামের প্রায় দুই হাজার পুরুষ বাড়ী থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।উল্লেখ্য গত ১৭ এপ্রিল শনিবার দুপুরে ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া ও লুন্দিয়া গ্রামে ধান মাড়াইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ঝগড়া সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। এসময় উভয় পক্ষের প্রায় দু’শ বাড়ী-ঘর লুটপাট হয়। ঘটনায় নিহতরা হলো শেখ পাভেল (২৫) ও শেখ মকবুল (৩৫)।গ্রামে ঘুরে দেখা যায় শতাধিক বাড়ী- ঘরের দরজা- জানালা টিন বেড়া প্রতিপক্ষরা লুট করে নিয়ে গেছে।

 

গ্রামের অনেক নারী- পুরুষ জিনিষপত্র লুটপাটের ভয়ে নিজেরা সরিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। গ্রামগুলি এখন মানবশূন্য হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গা ঘরগুলি ছাড়া গ্রামে এখন কাঁচা- পাকা ঘর নেই।গ্রামের বৃদ্ধ মধু মিয়া জানান, আমার জীবনে গ্রামে এমন বর্বরতা আর কখনও দেখেনি। তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন খুন হলো। গ্রামে এখন কয়েক বৃদ্ধ- বৃদ্ধা ছাড়া কোন পুরুষ নেই। বৃদ্ধা নারী জুবেরা বেগম জানান, মাঠে ধান পেকেছে কিন্তু কাটার লোক নেই।

 

ধান কাটতে না পারলে সারা বছর কি খামু, এপ্রশ্ন বৃদ্ধের।এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোমতাজ উদ্দিন জানান, দুটি গ্রামের মানুষই বর্বর। তুচ্ছ ঘটনায় দুটি খুন হলো। তারপর লুটপাট, ভাংচুর। এমন নৃশংসতা অতীতে কখনও হয়নি। এখন পুলিশের ভয়ে সব পুরুষ গ্রাম ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মাঠের পাকা ধান এক সপ্তাহের মধ্য কাটতে না পারলে সব ধান নষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যাবে।

 

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিন জানান, খুনের ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি প্রায় দুই শত পঞ্চাশ জন। সংঘর্ষের পর দুটি গ্রামে দুটি পক্ষ যেভাবে লুটপাট ভাংচুর করেছে তা নজিরবিহীন। গ্রামে পুলিশ টহল না দিলে তারা উভয় পক্ষ আবারও উত্তেজিত হয়ে ঝগড়া সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। আইন – শৃঙ্খলা দমনে নিরাপত্তার স্বার্থে দুটি গ্রামে প্রতিদিন পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ছাড়া অন্য কোন নিরীহ

লোককে গ্রেপ্তার বা হয়রানী না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষকরা পাকা ধান কাটতে পুলিশ কোন বাধা দিবে না বলে জানান তিনি। যেসব কৃষকের জমির ধান পেকেছে তারা বাড়ীতে এসে ধান কাটতে কোন ভয় নেই বলে জানান তিনি।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: