মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

বিয়ের জন্য চাপ দেয় প্রেমিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা
ডেস্ক
Update : মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Bayern Munich Manuel Neuer Julian Nagelsmann, rtv online

সত্যখবর ডেস্ক । ২৮ এপ্রিল ২০২১ ।

প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখে ট্রাকচালক জিরাব আলী (২৯) সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে পাটগ্রাম থানায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি -সার্কেল) তাপস সরকার।

 

এর আগে গত বছরের ২ ডিসেম্বর লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের মমিনপুর আলাউদ্দিননগর নির্জন এলাকায় মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অজ্ঞাত তরুণীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতক ট্রাকচালক শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা গ্রামের কুবেদ আলীর ছেলে জিরাব আলী ও তার ভাতিজা একই এলাকার জিলামুদ্দিনের ছেলে শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে (১৫) গত ২০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পাটগ্রাম থানা পুলিশ।

 

লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার জানান, প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে হামিদা আক্তারের (২৪) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ট্রাকচালক জিরাব আলী। হামিদা বিয়ের জন্য চাপ দিলে আগের দুই স্ত্রী ও সন্তান থাকায় বিয়ে করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন প্রেমিক জিরাব আলী। ফের বিয়ের জন্য চাপ দিলে একপর্যায়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জিরাব আলী।

 

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছর ডিসেম্বরে বাড়ি থেকে হামিদাকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে রাখেন জিরাব আলী। এরপর গত বছর ১ ডিসেম্বর রাতে বুড়িমারী স্থলবন্দর আসার পথে ট্রাকে হামিদাকে নিয়ে আসেন। ওই রাতে সহকারী চালক তার ভাতিজা শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে হামিদাকে ধর্ষণ করে।

 

এরপর ভাতিজা শাহিনের সহায়তায় রড দিয়ে পিটিয়ে বিবস্ত্র হামিদাকে হত্যা করে মহাসড়কের পাশে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরদিন ২ ডিসেম্বর স্থানীয়দের খবরে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় দাফন করা হয়।

 

প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। দীর্ঘ ৫ মাস পরে ক্লু-লেস হত্যা মামলার ক্লু উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ২০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘাতক ট্রাকচালক জিরাব আলী ও তার ভাতিজা সহকারী চালক শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: