সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

বাঘায় পদ্মার চরে ইব্রাহীম হত্যা মামলার আসামীর হুমকিতে বাদি এলাকা ছাড়া
হাসানুজ্জামান
Update : সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

বাঘা রাজশাহী  প্রতিনিধি।। শনিবার, ৫ জুন ২০২১, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ।

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে গুলি করে ইব্রাহীম হত্যা মামলার আসামীর হুমকিতে বাদি এলাকা ছাড়া হয়েছেন। আসামীদের ভয়ে তারা এলাকায় যেতে পারছনা বলে দাবি করেন বাদি পক্ষ। ইতিমধ্যেই হত্যা মামলার আসামীরা বাদি পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন।জানা যায়, ২৪ মার্চ প্রকাশ্য ইব্রাহীম হোসেনকে পদ্মার মধ্যে চৌমাদিয়া চরের দিদার ব্যাপারী, আবদুর রশিদ ও জিয়া বাহীনির ২০-৩০ জনের একটি দল অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ইব্রাহীম হোসেনের ভাই সোলেমান হোসেন দেওয়ান বাদি হয়ে বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

অপর দিকে এব্রাহীম নিহতের ঘটনার ২৬ দিন আগে ২৮ ফেব্রুয়ারী ওই সন্ত্রাসী বাহীনিরা বন্ধুক, লাঠি, হাসুয়া, লোহার রড় নিয়ে হামলা করে। এতে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় আবদুর রহমান বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা দুটির আসামী ২২ জন। তাদের একেক জনের নামে বিভিন্ন থানায় ৪ থেকে ১২টি পর্যন্ত মাদক মামলা রয়েছে। তারপরও তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুবেবেড়াচ্ছেন। নিহত ইব্রাহীন হোসেন দেওয়ান চৌমাদিয়া চরের হাবু দেওয়ানের ছেলে।

 

পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও চৌমাদিয়া চরের আবদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে দিদার ব্যাপারী, আবদুর রশিদ ও জিয়ার ক্যাডার বাহিনী এলাকায় অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। এই অবৈধ ব্যবসার বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। ফলে ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে না। তারা এলাকায় রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কোন কোন সময় ইব্রাহীম এর প্রতিবাদও করেন।

 

এই অবৈধ ব্যবসার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাদের গুলিতে পান দিতে হলো।তিনি আরো বলেন, বর্তমানে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আসামীরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি, ফসল লুট করার অভিযোগ এনে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে চলেছেন। অথচ পৃথক দুটি মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের একেক জনের নামে বিভিন্ন থানায় ৪-১২টি পর্যন্ত মাদক মামলা রয়েছে।

 

এ বিষয়ে নিহতের ভাই সোলেমান হোসেন দেওয়ান বলেন, আমার ভাই ইব্রাহীন হোসেন দেওয়ান চৌমাদিয়া বাজারে বসেছিল। এ সময় দিদার ব্যাপারী, আবদুর রশিদ ও জিয়া বাহিনীর একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে গুলি করে ভাইকে হত্যা করে। আমি বাদি হয়ে মামলা করার পর এলাকায় থাকতে পারছিনা। মামলা করে তাদের ভয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছি।তিনি আরো বলেন, এক সময় পদ্মার চরে রাজত্ব কায়েম করেছিল পান্না ও লাঁলচান বাহিনী।

 

ওই সময় তারা সাধারণ কৃষকের ফসল ও গরু মহিষ লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তত্বাবধায়ক সরকার আমলে আইন শিঙ্খলা বাহীনির হাতে তারা ২ জনই নিহত হন। বর্তমানে তারা লালচাঁন ও পান্না বাহীনির জায়গা দখল করতে চলেছেন। এখনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আরো ভয়াভবহ সৃষ্টি হবে।এ বিষয়ে পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, আমি উপজেলা আইন শৃংখলা মিটিং-এ গুলিতে ৪ জন আহত এবং সন্ত্রাসী দ্বারা ইব্রাহিম হত্যার ঘটনাটি উপস্থাপন করেছি।

 

মিটিং এর সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি পুলিশের উর্ধতণ কতৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে আস্বস্ত করেছেন। এ বিষয়ে বাঘার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের কোন অবহেলা নেই। প্রথম গুলাগুলির (২৮ ফেব্রুয়ারী) দিন ২ জনকে আটক করা হয়েছে।(২৪ মাচর্) ইব্রাহিম হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামী  দিলা ব্যাপারীকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বার মাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: