বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় গুলি করে মা ছেলেসহ ৩জনকে হত্যার আসামী এএসআই সৌমেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে
আলামিন খান রাব্বি
Update : বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

সত্যখবর ডেস্ক ।। ১৪ জুন সোমবার ২০২১ ।

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে মা, ছেলেসহ তিনজনকে হত্যার আসামী পুলিশের এএসআই সৌমেন রায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক এনামুল হক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহন করেন। আজ ১৪ জুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে বিকেল ৪.৪৫ মিনিটে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে হেলমেট পরিয়ে তাকে কারাগারে নেয় পুলিশ। এসময় পুলিশ সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেনি।

তবে কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমরান আসামী তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে, আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যম এড়িয়ে চলে যান। আদালতের পেশকার এম এ আলিম বলেন, জবানবন্দীতে সৌমেন রায় হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্ত্রীর অন্য পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কের জেরে তিনি এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি দু:খ্য প্রকাশও করেন।এদিকে কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পরোকিয়ার সম্পর্কের কারনে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন উল্লেখ করে আসামী জবানবন্দীতে খুনের কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে বেলা দেড়টায় কড়া পাহারায় পুলিশ তাকে কুষ্টিয়ার আদালতে নিয়ে আসে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মডেল থানার ওসি তদন্ত নিশিকান্ত সরকার নিহত আসমার মা হাসিনা খাতুনের দায়ের করা মামলায় আদালতে আসামীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহনের আবেদন করেন। এর আগে আজ দুপুর ১২ টায় নামাজে জানাযা শেষে নিহত আসমা ও তার শিশু ছেলে রবিনকে নিজ বাড়ি কুমারখালী উপজেলার নাতুড়িয়া গ্রামে ও শাকিল খানকে চাপড়া ইউনিয়নের সাওতা গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

এসময় সেখানে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিকাশ কর্মী শাকিল খানের সাথে দেখা করতে কুষ্টিয়ার কাষ্টমমোড়ে নাজ ম্যানশনে বিকাশের দোকানে আসেন আসমা ও তার শিশু সন্তান রবিন। সেখানে আসমার সাবেক স্বামী পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়ও আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৌমেন রায় তার নিজের পিস্তল দিয়ে শাকিল খান ও আসমার উপর গুলি চালায়।

সেখান থেকে শিশু রবিন বাইরে চলে আসলে দোকানের সামনে পেছন থেকে তার উপর গুলি চালায় সৌমেন, রবিন পড়ে গেলে কাছে এসে তার মাথায় আরো একটি গুলি চালায় সে। জনতা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে সৌমেনকে আটক করে। হাসপাতালে নিলে তিনজনই মারা যায়। ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়কে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়াও পুলিশ এই ঘটনা তদন্তে আলাদা দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: