বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ২১ জনের মৃত্যু
Reporter Name
Update : বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

সত্যখবর ডেস্ক ।। ০৪ জুলাই ২০২১
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরো ১৯ জনের এবং কুমারখালী উপজেলায় আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন এবং করোনার লক্ষণ নিয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯ টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: এম এ মোমেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলায় ২৪ ঘন্টায় এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা বলে জানা গেছে। এর আগে গত জুন মাসে ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন করোনায় আক্রান্ত একজন এবং বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে। মৃত দুজনের বাড়িই উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নে। কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আকুল উদ্দিন করোনা আক্রান্ত দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। ২৫০ বেডের করোনা ডেডিকেটেড এই হাসপাতালটিতে এখন শয্যার চেয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে রোববার সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্তÍ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৩ জনে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই ২০৫ জন। আর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন আরো ৬৮ জন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: তাপস কুমার সরকার জানান, শয্যা না থাকায় এখন রোগীদের মেঝেতে রাখতে হচ্ছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর চাপ যেভাবে বাড়ছে তাতে সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে রোগীর চাপ অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট দেখা দিচ্ছে। এর আগে অক্সিজেন সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মাহবুব উল আলম হানিফ কয়েক দফায় হাসপাতালে তিন শত অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করেন। এদিকে জেলার বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও তীব্র অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যার জেলার সবচেয়ে বৃহৎ আয়তনের এ উপজেলাতে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩০ জনের মতো করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে, যার মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. ফরহাদ হোসেন জানান, হঠাৎ করে করোনা রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। যে কয়টি অক্সিজেন বর্তমানে রয়েছে জরুরি প্রয়োজন হলে এক রোগীর কাছ থেকে খুলে নিয়ে আরেক রোগীকে দিয়ে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, ৪৮ টি সিলিন্ডার দিয়ে সেবা দেয়া হচ্ছে, বর্তমানে পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তা সামাল দিতে আরও অন্তত ১শ’ সিলিন্ডারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরঞ্জাম প্রয়োজন। এছাড়াও এই হাসপাতালে কোন মেডিসিন কনসালটেন্ট নেই। চিকিৎসকরাও করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এদিকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অক্সিজেনের সংকটের কথা শুনে শনিবার সকালে প্রতিনিধির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ২০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার প্রদান করেছেন স্থানীয় সংসদ এডভোকেট আ.কা.ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ। বর্তমানে তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬০৯ টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে নতুন করে ১৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৬৯ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ৮ হাজার ৪৭৫ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬৮৯ জন। মৃত্যের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩০ জনে। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১৯৩ জনের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৩৬ জন, দৌলতপুর উপজেলায় ৪৫ জন, কুমারখালী উপজেলায় ৩১ জন, ভেড়ামারা উপজেলায় ২৭ জন, মিরপুর উপজেলায় ২৩ জন ও খোকসা উপজেলায় ৩১ জন। এখন পর্যন্ত জেলায় ৬৪ হাজার ৫৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৬১হাজার ৯৯৪ জনের। বাকিরা নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমানে কুষ্টিয়ায় সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৩ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ২৬৫ জন এবং হোম আইসোলেশনে আছেন ২ হাজার ২২৮ জন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: