বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

 কুবি প্রায় দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী, অনলাইনে পরীক্ষা দিতে আগ্রহী
জীবন বিশ্বাস
Update : বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

সত্যখবর ডেস্ক ।। সোমবার, ০৫ জুলাই ২০২১, ২১ আষাঢ় ১৪২৮ ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তাণ্ডবের মাঝে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রায় দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী ৬৬ শতাংশ অনলাইনে পরীক্ষা দিতে আগ্রহী। তবে ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে পরীক্ষা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরমধ্যে অনলাইনের বিপক্ষে ১৭ শতাংশ, ইদের পর সশরীরে পরীক্ষা দিতে চান ১৫ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন চান ১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া বাকিরা অটোপাশ ও শুধুমাত্র ইনকোর্স অনলাইনে দিতে চান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) গ্রুপে পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে এই ফলাফল পাওয়া যায়। জরিপে মোট ১ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। গত শুক্রবার ২ জুলাই উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ‘শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হবে’ জানালে শুক্রবার রাত থেকে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার ৪ জুলাই রাত পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী জরিপে অংশ নেন। জানা যায়, করোনা সংক্রমণের ফলে গত বছরের ১৭ মার্চ হতে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীরে পরীক্ষা নেয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে পরীক্ষা স্থগিত করে আবার গত ১৩ জুন থেকে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে। তবে আবারও ২৫ জুন থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানালে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানান। এ বিষয়ে কুবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী মানজুরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সময়ে অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে সেশনজট থেকে মুক্তি দিচ্ছে। অথচ আমরা পিছিয়ে রয়েছি। শিক্ষার্থীদের ৪ বছর অনার্স শেষ করতে সময় লাগে ৬ বছর। এই সেশনজট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে পরীক্ষা দিতে নারাজ। তারা জানান, এ দেশে অনলাইন ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। পার্বত্য অঞ্চলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। এছাড়া সবার পর্যাপ্ত আধুনিক ডিভাইস নেই। সেসব বিবেচনা করে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া জরুরি। এ দিকে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজেস্টার রিকভারি গাইডলাইন প্রণয়ন করতে আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় ডিজেস্টার রিকভারি গাইডলাইন প্রণয়ন ও অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে দুইটি কমিটি করা হয়েছ। তবে দুইটি কমিটি দুইটি এখনো কার্যক্রম শুরু করেনি-ডিজেস্টার রিকভারি গাইডলাইন প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, কমিটি হয়েছে তবে আমি এখনো চিঠি পাইনি। চিঠি হাতে পেলে নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে কাজ শুরু করব। এ দিকে, শিক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এখনও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবে অনলাইন পরীক্ষা শুরু করেনি। যারা শুরু করেছে তাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সব এলাকায় ভালো নেটওয়ার্ক নেই। সবাই পরীক্ষায় বসতে পারবে না। তাহলে কীভাবে সম্ভব? করোনা সংক্রামণ কিছুটা কমলে আমরা সশরীরে পরীক্ষার কথা ভাবছি। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইনে পরীক্ষার বিষয়টি ভেবে দেখব।

অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমরা কমিটি করে দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে ইউজিসির সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী ভাইভা, প্রেজেন্টেশনগুলো এখন অনলাইনেই নিচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: