বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

মাদকদ্রব্য উদ্ধার হলেও ধরা পড়ছে না মাদককারবারীরা পর্দার আড়ালে মাদক চোরাচালান চক্রের মূলহোতা
মোঃ ফয়সাল ইকবল
Update : বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

সত্যখবর ডেস্ক  ।। রোববার, ১৮ জুলাই ২০২১, ৩ শ্রাবণ ১৪২৮।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার  বিলগাতুয়া সীমান্তে মাদক চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে একটি সিন্ডিকেট। অধিকাংশ মাদকবিরোধী অভিযানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার হলেও মাদককারবারীরা পড়ছে না ধরা। মাদক চোরাচালানের হট স্পট হিসাবে বিলগাতুয়া জামালপুর, ঠোটারপাড়া, বাংলাবাজারসহ ২৬টি গোল্ডেন ভিলেজে পুলিশ, বিজিবি টহল তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও আসামী গ্রেপ্তারে বাহিনী ব্যর্থতা চোখে পড়ার মত।

ইদানিং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদকবহনকারী আসামী পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, বিজিবির সোর্স পরিচয়দানকারী বিলগাথুয়া গ্রামের মৃত আছের উদ্দীনের ছেলে টুয়েল (৪০) বিলগাথুয়া বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারকে ভূল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে অভিযানিক দলকে ভূল পথে নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, টুয়েল মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। সে নানান অপকৌশল অবলম্বন করে প্রতিদিনই বিজিবি টহল টিমের চোখে ধুলা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে মাদকচোরালান করে থাকে।

তার প্রকাশ্য কোন আয়ের উৎস নাই। তার প্রধান সহযোগি একই গ্রামের তোয়াজের ছেলে আকিদুল, আব্দুল মালেকের ছেলে বাহার। গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বিলগাতুয়া গ্রামে মটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রতিদিন ফেনসিডিল সেবীদের কাছে খুচরা বিক্রি করে বাহার, সান্টু। সম্প্রতি সে এক লাখ টাকা দিয়ে একটা মটরসাইকেল কিনেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, বিলগাতুয়া গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে রাকিব, পলিনের ছেলে নাছিম, বিল্লালের ছেলে আসিফ, সামাজুলের ছেলে সজীব মটরসাইকেলযোগে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে মাদক পরিবহন করে। বিলগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা নূর খান পিং শামসুল মালিথা, সঞ্চায় পিতা সাদেক, আব্দুল হালিম পিতা শামসুল, সেন্টু পিতা আরজেদ আলী, শহিদুলের ছেলে ইয়াসিন, ইখলাস একাধিক বার মাদকসহ ধরা পড়েছে।

মতলেবের দুই ছেলে ঝন্টু, মন্টু, পিতা- বিলগাতুয়াপূর্ব পাড়ার সহির উদ্দিন, মঞ্জু পিতাঃ নূর হোসেন এই চক্রের সদস্য। তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন গ্রামের সচেতন মহল। বিলগাথুয়া গ্রামের চারপাশে ভারতের সিমান্ত। পুলিশ পৌঁছনোর পূর্বেই মাদকচোরালানচক্র টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের ধারনা টুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বিলগাতুয়া সীমান্তে মাদকচোরাচালান চক্রের মূল হোতা, পৃষ্ঠপোষকের নাম বেরিয়ে আসবে।

গ্রামটিতে সরেজমিনে তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের প্রতি আহবান জানান সচেতনমহল। সাম্প্রতিক কালে বিলগাতুয়া গ্রামে মাদকের আগ্রাসন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সামাজিক অবক্ষয় ও শান্তি-শৃংখলা নষ্টের মূল হোতাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিলগাতুয়া গ্রামের সর্রস্তরের জনগণ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: