শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

বাঘায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল খনন প্রকল্পের কাজ আড়াই বছর ধরে বন্ধ
বাঘা (রাজশাহী)প্রতিনিধি
Update : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাঘা (রাজশাহী)প্রতিনিধি ।। রোববার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১ ভাদ্র ১৪২৮ ।

রাজশাহীর বাঘায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল খনন প্রকল্পের কাজ আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ৮০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পরে স্থানীয় তমেজ উদ্দিন, মোজাহার হোসেন, আবুল কাশেম ও রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে আদালতে মামলা করার পর এই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।এই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিস্কাশন হতে পারছেনা।

ফলে উপজেলার নওটিকা, আরিফপুর, বেলগাছি, বারখাদিয়া, হিজোলপল্লী, তেপুকুরিয়াসহ ছয়টি বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত বিঘা ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট বাজুবাঘা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান কৃষকদের পক্ষে একটি  লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার মশিদপুর পদ্মা নদীর মুখে রয়েছে একটি সুইজ গেট।

সেখান থেকে সরকারিভাবে ক্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে এক সময় উপজেলার ছয়টি বিলে পানি প্রবেশ করত। এতে উপকৃত হতেন কৃষকরা। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ক্যানেলের কয়েকটি স্থানে মাটির ব্যাড়া দিয়ে ও বিলে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন।বিষয়টি স্থানীয় সাংসদের নজরে দিয়ে তাঁর সহযোগিতায় বরেন্দ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করেন।

এই নিয়ে কিছু ব্যক্তি বাধা দিয়ে আদালতে মামলা করার পর কাজ বন্ধ রয়েছে।এ বিষয়ে মামলার বাদি তমেজ উদ্দিন, মোজাহার হোসেন, আবুল কাশেম ও রবিউল ইসলাম বলেন, রের্কডকৃত সম্পত্তির উপর দিয়ে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্দ্যোগ নেয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পরও কাজ করতে থাকে। নিরুপায় হয়ে আদালতে চারটি মামলা করা হয়েছে।স্থানীয় মহিউল হাসান টিনি বলেন, যারা রেকড মূলে মামলা করেছে তারা ১৯৭৪ সালের রেকড়ের অংশিদার সত্য।

তবে ১৯২২ এবং ১৯৬২ সালে এটি খাস ক্ষতিয়ান ভুক্ত ক্যানেল ও ডোবা-নালা হিসাবে চিহিৃত। শুকনো মৌসুমে বিলে পানি রাখা এবং বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি নিস্কাশনের জন্য স্থানীয় সাংসদের কাছে থেকে সুপারিশ নিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে ৭টি ভাগে ভাগ করে খাল খনন কাজ শুরু করা হয়। এরমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ সম্পূন্ন হয়েছে।

পরবর্তীতে কিছু ব্যক্তি ডোবা ধানী জমি দাবি করে আদালতে মামলা করেন। তারপর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও নওটিকা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আমার ৫ বিঘা জমির ধান ও অসংখ্য কৃষকের ফসল পানির নিচে তুলিয়ে আছে। অপরিকল্পিত ভাবে বিলের মধ্যে পুকুর খনন এবং বরাদ্দকৃত কাজ বন্ধ করে দেয়ায় ক্যানেলের মুখ বন্ধ হয়ে জলাবন্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পদ্মা নদীর সাথে বিলের সম্পৃক্ত করে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খাল খনন শুরু করেছিল। ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ৬ কিলোমিটার খনন কাজ শেষে হয়েছে। কাজ চলা অবস্থায় স্থানীয় কিছু মানুষ আদালতে মামলা করায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। জনসার্থে খালটি সম্পূন্ন করা খুবই জরুরী।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ সংবাদ
copyright protected
%d bloggers like this: